Dark Mode Light Mode

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Follow Us

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা
বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো অযৌনচিত্ত প্রকাশনা

শরীর ও সম্পর্কের ব্যবধান

নীলকণ্ঠের মতো বিষ হজম করে চলা অনিমেষের জীবনটা বরাবরই একাকী। এমন একাকীত্ব নয়, যা ধীরে ধীরে মানুষের চারপাশে জমাট বেঁধে দেয়াল হয়ে ওঠে, বরং এমন এক নীরবতা; যা মানুষ নিজের পছন্দে বেছে নেয়।

খুব ছোটবেলায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মাকে সে হারিয়েছিল । পৃথিবীতে তার জন্য কেউ অপেক্ষা করে থাকবে—এই অনুভূতিটা সে খুব অল্প বয়সেই হারিয়ে ফেলেছিল। তারপর কেটেছে এক ফুফুর বাড়ি থেকে আরেক ফুফুর বাড়িতে, এক শোবার ঘর থেকে আরেক শোবার ঘরে, এক অস্থায়ী আশ্রয় থেকে অন্য অস্থায়ী আশ্রয়ে ভেসে যেতে যেতে। কেউ তাকে অবহেলা করেনি, কিন্তু কেউ তাকে নিজের বলেও দাবি করেনি সম্পূর্ণভাবে।

সম্ভবত সেই কারণেই খুব ছোটবেলা থেকেই সে নিজের ভেতরেই একটি পৃথিবী বানিয়ে নিয়েছিল।

সেখানে বই ছিল, পুরনো মানচিত্র ছিল, দূর দেশের গল্প ছিল, আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘক্ষণ চুপ করে বসে থাকার অভ্যাস ছিল। অন্য ছেলেরা সিনেমার নায়িকাদের নিয়ে তর্ক করত, কৈশোরের উত্তেজনায় অদ্ভুত সব গোপন কথোপকথনে মেতে উঠত। অনিমেষ তাদের পাশে বসে থাকত ঠিকই, কিন্তু নিজেকে মনে হতো যেন ভুল করে অন্য কারও স্বপ্নে ঢুকে পড়েছে। 

বন্ধুরা যখন প্রথম প্রেমের গল্প বলত, শরীরের অস্থিরতার কথা বলত, তখন অনিমেষের মনে হতো সে যেন অন্য কোনো ভাষার মানুষের কথা শুনছে।

তারও ভালো লাগত মানুষকে।

কাউকে দীর্ঘক্ষণ দেখতে ভালো লাগত, কারও কণ্ঠস্বরের জন্য অপেক্ষা করতে ভালো লাগত, কারও সঙ্গে বিকেল কাটিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বুকের ভেতরে অকারণ শূন্যতা জন্মাত।

কিন্তু সেই অনুভূতিগুলোর সঙ্গে তার সমবয়সীদের উত্তেজনার কোনো মিল সে খুঁজে পেত না।

শরীর স্বাভাবিক নিয়মে রোজ সকালে উত্থোলিত হতো, তার ভালো লাগতো হস্তমৈথুন। কিন্তু অন্য ছেলেদের সাথে আড্ডায় বসে যখন শুনতো অন্য কাউকে দেখে শরীরের উত্তেজনা হয়- গোটা বিষয়টাই খুব অদ্ভুত লাগতো তার।

প্রথমদিকে সে ভেবেছিল, হয়তো সে একটু দেরিতে বড় হচ্ছে।

তারপর ভেবেছিল, হয়তো সে ভীষণ লাজুক।

তারপর ভেবেছিল, হয়তো পৃথিবীর সমস্ত পুরুষের ভেতরে যে আগুন জ্বলে, সেই আগুন জ্বালানোর দেশলাই কাঠিটাই তার ভাগ্যে পড়েনি।

কিন্তু এই প্রশ্নগুলো কাউকে জিজ্ঞেস করা যায় না।

কারণ সমাজ উত্তর দেওয়ার আগে প্রশ্নকর্তাকেই বিচার করে ফেলে।

ক্রমশ সে শিখে গেল নীরব থাকতে।

অভিনয় করতে।

বন্ধুদের হাসির সঙ্গে হাসতে।

কারও সৌন্দর্যের প্রশংসায় মাথা নাড়তে।

যে বিস্ময় তার ভেতরে জন্মাত না, সেই বিস্ময়ের অভিনয় করতে।

মানুষের জীবনে সবচেয়ে ক্লান্তিকর শ্রম সম্ভবত নিজেকে অন্য কারও মতো প্রমাণ করার চেষ্টা।

অনিমেষ সেই শ্রম করে গেছে বছরের পর বছর।

খুব ভালো ছাত্র হওয়ায় অল্প বয়সে দেশ ছেড়ে লন্ডনে পড়তে আসা তার, তারপর এই বিস্তীর্ণ বিলেতে নিজের একটা ছোট পৃথিবী বানিয়ে নেওয়া। নেই বন্ধু -নেই আড্ডা- নেই অহেতুক অভিনয়ের চাপ, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বলতে মাসে একবার সংক্ষিপ্ত ফোন কল। সে ছিল অরণ্যের মতো শান্ত, নিজের ভেতরেই নিজের বসতি।

নিউক্যাসলের নির্জন রাস্তায় একসময় অনিমেষ একা একা হাঁটত। তার বন্ধু বলতে ছিল বইয়ের তাক, পুরনো গান, আর কিছু অস্পষ্ট স্মৃতি। সেই মানুষটিই মধ্যবয়সে যখন প্রথম নীলার দেখা পেল, তার মনে হয়েছিল, বহুদিনের শীতের শেষে হঠাৎ জানালার বাইরে রোদ এসে দাঁড়িয়েছে। নীলা ছিল অনিমেষের প্রথম প্রেম।

তাদের প্রেম ছিল দূরত্বের প্রেম। কয়েক হাজার মাইলের ব্যবধান পেরিয়ে ফোনের ওপারে কণ্ঠস্বর, রাত জেগে গল্প, কল্পনায় মুখের রেখা আঁকা, আর মাঝেমধ্যে দেখা হওয়ার ক্ষণস্থায়ী বিস্ময়। সেই অল্প কয়েকটি দিনের মধ্যে নীলা কখনও তার হাত ধরেছিল, কখনও হঠাৎ খুব কাছে এসে দাঁড়িয়েছিল। অনিমেষ ভেবেছিল, এ-ই বোধহয় প্রেমের স্বাভাবিক ভাষা।

তখনও সে জানত না, মানুষের শরীর আর মন সবসময় একই অভিধানে কথা বলে না।

প্রবাসী জীবনে অনিমেষের পৃথিবীটা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছিল। তাই বিয়েটা হয়েছিল তাড়াহুড়ো করেই। সে ভেবেছিল, ভালোবাসা মানে একই ছাদের নিচে থাকা, সন্ধ্যার চা ভাগ করে খাওয়া, একসঙ্গে বাজারে যাওয়া, রাতের বেলা পাশাপাশি বসে বই পড়া।

কিন্তু লন্ডনের এই ছোট্ট ফ্ল্যাটে উঠে আসার পর থেকেই তার ভেতরে এক অদ্ভুত অস্বস্তি জন্ম নিতে শুরু করল।

নীলার কাছে ভালোবাসার এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষা ছিল শরীরী ঘনিষ্ঠতা। অনিমেষের কাছে ভালোবাসা ছিল অন্যরকম—একটা দীর্ঘ আলিঙ্গন, পাশাপাশি বসে বৃষ্টি দেখা, কিংবা গভীর রাতে কারও নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়া।

সে বুঝতে পারছিল, তারা দুজন যেন ভিন্ন ধাতুতে গড়া দুটো মানুষ।

রাতগুলো ক্রমশ তার কাছে কঠিন হয়ে উঠতে লাগল। সে নীলাকে ভালোবাসত, কিন্তু যে প্রত্যাশা তাকে ঘিরে থাকত, তার ভেতরে সে নিজের কোনো প্রতিধ্বনি খুঁজে পেত না।

একদিন খুব ধীরে সে বলেছিল—

—আমার হয়তো… খুব একটা ইচ্ছে করে না, নীলা।

নীলা তার দিকে তাকিয়ে ছিল অনেকক্ষণ।

তার চোখে ছিল বিস্ময়, সন্দেহ, আহত অভিমান।

সে ভাবতে শুরু করল, নিশ্চয়ই অন্য কেউ আছে।

আর অনিমেষ, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার এক অদ্ভুত প্রয়োজনে, ক্রমশ পৃথিবী থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে লাগল। কর্মস্থলের নারী সহকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলো, সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলা শুরু করল, নিজের চারপাশের বৃত্তটাকে ছোট থেকে ছোটতর করতে লাগল।

তার পৃথিবী হয়ে দাঁড়াল শুধু কর্মক্ষেত্র আর তাদের ওয়ান বেডরুম এপার্টমেন্ট।

তবু ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলো না।

দুই বছর এভাবেই কেটে গেল।

তারপর এক বিকেলে, সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে, অনিমেষ সামনে উন্মোচিত হলো নীলার জীবনের এক গোপন অধ্যায়ের কথা। তার অতীতের একজন মানুষ আবার ফিরে এসেছে বর্তমানের ভেতরে, মুঠোফোনের বার্তাগুলো পড়েই বোঝা যাচ্ছে অন্তরঙ্গের গভীরতা।

অদ্ভুতভাবে, প্রথম মুহূর্তে অনিমেষ খুব বেশি রাগ অনুভব করল না। বরং তার মনে এক অপরাধবোধের জন্ম নিল- মনে হয়েছিল বারবার, হয়তো নীলা এমন কিছু খুঁজছিল, যা অনিমেষ তাকে দিতে পারেনি।

কিন্তু অদ্ভুত কৌতুহলে সে পড়ে যাচ্ছিল একের এক সকল আলাপচারিতাগুলো, হঠাৎ সে যেন পাথর হয়ে গেলো। নীলা যে পরকীয়া করছে সেজন্য নয়, বরং নতন সম্পর্কে এক অসম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে সে তার স্বামীকে পরিচয় করিয়েছে, যৌনতায় তার উন্মাদনা না থাকাটা যেন এক কৌতুকের বিষয় ওদের সম্পর্কে। কিভাবে পারলো নীলা একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ে অন্যকে বলতে? অনিমেষ তো কখনো বুঝে নি যে তার ভিন্নতাকে নিয়ে উপহাসও জন্ম নিয়েছে নীলার মাঝে, তাই আঘাতটা অন্য জায়গায় গিয়ে লাগল।

বিশ্বাসঘাতকতা যতটা না তাকে ভাঙল, তার চেয়ে বেশি ভাঙল নিজের প্রতি তার আত্মবিশ্বাস।

সে প্রথমবার ভাবতে শুরু করল—

তাহলে কি সে অসম্পূর্ণ?

পুরুষ হওয়া কি তবে একটি উন্মাতাল যৌন আকর্ষনের নাম?

মানুষের সম্পর্ককে কি শুধুই যৌনতার মধ্যেই মাপা হয়?

লন্ডনের এপার্টমেন্টের ছাপে হাঁটতে হাঁটতে, শীতের কুয়াশার দিকে তাকিয়ে সে বারবার নিজেকে প্রশ্ন করত। এতো অপমান সে আগে কখনো বোধ করে নি। মনে হয়েছে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে শুন্যতার অসীমে হারিয়ে যেতে , কিন্তু পাথর হয়ে রইলো। 

তার মনে হচ্ছে, এই পৃথিবীতে তার অস্তিত্বের কোনো মানে নেই। যে শরীরটা সে আজীবন আগলে রেখেছিল, সেই শরীরটাকেই আজ নীলা নর্দমার মতো উপহাস করেছে। অনিমেষ ঘরে ফিরে গেল। আয়নায় নিজের মুখটা দেখল—একজন নিঃসঙ্গ, বিধ্বস্ত মানুষ, যে জানত না তার ভেতরে একটা আস্ত মহাদেশ লুকিয়ে আছে, অথচ পৃথিবীর চোখে সে কেবলই এক ‘ব্যর্থ পুরুষ’।

অনিমেষ ক্রমশ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছিল। আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখলে মনে হতো, এ কোনো কঙ্কাল, যে অন্যের উপহাসের ভারে নুয়ে আছে। রাতের অন্ধকারে লন্ডনের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে সে নিজেকে জিজ্ঞেস করত, সে কি তবে কোনো ভুল জন্ম নিয়েছিল? তার শরীর কেন তবে এই যন্ত্রণার আধার হলো? সে বুঝতে পারছিল নীলা আর তার প্রেমিকের কথপোকথন যেন জীবন হয়ে উঠেছে তার কানের পাশে, সে আর পূর্বের জীবনে ফিরতে পারবে না, কারণ নীলা এবং তার প্রেমিকের হাসির শব্দটা এখন তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে, তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে। 

অনিমেষের জীবনের ওপর দিয়ে যে ঘূর্ণি বয়ে গিয়েছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি, প্রতিটি নিশ্বাস এখন তার কাছে এক একটি ভারী পাথর, কিন্তু সেই পাথরের নিচে পিষ্ট হতে হতে — সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে দাঁড়িয়ে সে আজ এক নতুন মানুষের ছায়া দেখছে। নিজের অস্তিত্বকে এভাবে মিথ্যে প্রমাণের ভয়ে বিসর্জন? যদি যৌনতার উত্তাল আকর্ষনে না ভাসবারর কারণে সমাজ তাকে ‘কম পুরুষ’ বা ‘পুরুষ নয়’ বলে দাগিয়ে দেয়, না-ই দিলাম আমি পুরুষ! আমি তো মানুষ, আমার তো বেঁচে থাকার অধিকার আছে। এই অদ্ভুত হীনম্মন্যতার শিকড়টা ঠিক কোথায়, সেটা তাকে খুঁজে বের করতেই হবে। 

তার মনে হতো, সে যেন পৃথিবীর ভাষা জানে না। সে একটি শব্দও করলো না। কিছ্ছু জিজ্ঞাসা পর্যন্ত করলো না নীলা। নীলকন্ঠের বিষ হজম করা মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে চাইলো। যদিও বহুবার প্রতিদিনই সে ভেবেছে অত্মহননের পথটিকেও। 

অথচ একদিন, ইন্টারনেটের অসীম অন্ধকারে ঘুরতে ঘুরতে, সে হঠাৎ একটি শব্দের সামনে এসে দাঁড়াল।

অ্যাসেক্সুয়ালিটি- অযৌনচিত্ত।

শব্দটা পড়ার পর তার মনে হয়েছিল, বহুদিন ধরে বন্ধ থাকা একটা জানালা হঠাৎ খুলে গেছে।

কৈশোরে বন্ধুদের উৎসাহ, কৌতূহল, উত্তেজনার ভিড়ে নিজের নির্লিপ্ততাকে সে এতদিন ব্যর্থতা ভেবেছিল। মনে করেছিল, নিজের অজান্তেই ভেবেছিল তার ভেতরে নিশ্চয়ই কোনো ত্রুটি আছে।

কিন্তু সেদিন প্রথমবার সে বুঝল—

ত্রুটি নয়, আছে পার্থক্য।

রোগ নয়, একটা ভিন্ন পরিচয়।

এরপর একদিন সে স্থানীয় অ্যাসেক্সুয়াল কমিউনিটির একটি ছোট্ট আড্ডায় গেল।

সেখানে গিয়ে সে দেখল, পৃথিবীতে তার মতো আরও মানুষ আছে।

কেউ শিক্ষক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিল্পী, কেউ অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধা।

তাদের গল্প আলাদা, কিন্তু এক জায়গায় এসে যেন সব গল্প মিলে যায়।

তারা সবাই কোনো না কোনো সময় নিজেদের ভুল মানুষ বলে ভেবেছিল।

অনিমেষের মনে হলো, এতদিন সে যে ভার বয়ে বেড়াচ্ছিল, তার অর্ধেকই আসলে ছিল সমাজের দেওয়া।

সেদিন বাড়ি ফেরার পথে লন্ডনের আকাশে হালকা তুষার পড়ছিল।

অনেকদিন পর সে নিজের ভেতরে এক ধরনের শান্তি অনুভব করল।

সপ্তাহ খানেক পরে এক শান্ত সন্ধ্যায়, নীলার সামনে বসে সে খুব শান্ত গলায় নিজের অভিমুখীতা নিয়ে সরাসরি আলাপ করলো।

নিজের নতুন খুঁজে পাওয়া পরিচয়ের কথা।

নিজের দীর্ঘ বিভ্রান্তির কথা।

নিজের ক্লান্তির কথা।

নীলা দীর্ঘক্ষণ চুপ করে ছিল।

তারপর খুব আস্তে বলেছিল—

—আমি ভেবেছিলাম তুমি আমাকে আর ভালোবাসো না।

অনিমেষ মাথা নাড়ল।

—আমি সবসময় ভালোবাসতাম। শুধু তোমার ভাষায় নয়।

ঘরটা নিঃশব্দ হয়ে গিয়েছিল।

সেই নীরবতার মধ্যে দুজন মানুষ প্রথমবার একে অপরকে বুঝতে শুরু করল।

হয়তো খুব দেরিতে।

হয়তো অনেক ক্ষতির পর।

তবু বুঝলো।

সমাজ তাদের শিখিয়েছিল, পুরুষত্বের একটি মাত্র সংজ্ঞা আছে, ভালোবাসার একটি মাত্র রূপ আছে, সম্পর্কের একটি মাত্র ব্যাকরণ আছে।

কিন্তু জীবন, সাহিত্যের মতোই, সবসময় ব্যাকরণ মেনে চলে না।

কিছু সম্পর্ক ভেঙে যায়।

কিছু সম্পর্ক বদলে যায়।

আর কিছু সম্পর্ক নতুন অর্থ খুঁজে নেয়।

সেদিন রাতে জানালার বাইরে লন্ডনের কুয়াশা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছিল।

অনিমেষ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল।

অনেকদিন পরে আয়নায় নিজের মুখ দেখে তার মনে হলো—

এই মানুষটিকে সে নতুন করে চিনছে।

নিজেকে নিয়ে আর কোন অবসাদ নেই তার।

এবং সবচেয়ে বড় কথা—

এই মানুষটির চমৎকারভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে, যেমন আছে পৃথিবীর আর সব মানুষের।

বাইরে তখন ভোরের আলো ফুটছে।

দীর্ঘ অমানিশার পর, শহরটা আবার ধীরে ধীরে জেগে উঠছে।

Keep Up to Date with the Most Important News

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Add a comment Add a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous Post

অযৌনকামী (অ্যাসেক্সুয়াল) মানুষের মানবাধিকার