রচনা: ঐশী, সম্পাদনা : কিশোর
ভুল ধারণা #১ – অযৌনচিত্ত মানে যৌন সম্পর্কের প্রতি বিতৃষ্ণা।
অযৌনচিত্ত ব্যাক্তিরা যৌন আকর্ষণ বোধ করেন না। কিন্তু এর মানে নয় যে তারা সবাই যৌন সম্পর্কের প্রতি কেবলমাত্র বিতৃষ্ণা প্রকাশ করেন।
যৌন সম্পর্কের প্রতি যেকোনো ব্যাক্তির বিভিন্ন রকম অনুভুতি থাকতে পারে, এরজন্য তাঁকে অযৌনচিত্তই হতে হবে এমনটা নয়। একজন ব্যাক্তি যৌন সম্পর্কের প্রতি বিতৃষ্ণ, অনাগ্রহী, কিংবা আগ্রহী হতে পারেন। (sex-repulsed, sex-indifferent, sex-favourable)
অনেক অযৌনচিত্ত ব্যাক্তি যৌন সম্পর্কের প্রতি বিতৃষ্ণা বোধ করেন। কিন্ত একজন অযৌনচিত্ত ব্যাক্তি যৌন সম্পর্কের প্রতি কিভাবে আগ্রহ বোধ করতে পারেন?
আমরা দেখতে পাই, অনেকেই আছেন যারা সঙ্গীর প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ না করা সত্বেও মিলনের অনুভুতি উপভোগ করতে পারেন (যেমন: যৌনকর্মী কিংবা যৌনসঙ্গীর প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ না করেও যৌন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব)। ঠিক তেমনি ভাবে কিছু অযৌনচিত্ত ব্যক্তি রয়েছেন যারা মিলনে আগ্রহ প্রকাশ করলেও আকর্ষণ অনুভব করেন না।
একজন অযৌনচিত্ত ব্যাক্তির মিলনের প্রতি কি অনুভুতি – তা কি করে বুঝা সম্ভব? নিঃসঙ্কোচে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তাঁর বাচনভঙ্গিই এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিবে। এই প্রশ্নে অনেক অযৌনচিত্ত সাচ্ছন্দ্যবোধ না-ও করতে পারেন, তখন তাকে চাপ দেওয়া উচিত না। একজন অযৌনচিত্ত ব্যাক্তি যদি নিজে থেকে আগ্রহ বোধ না করেন, তাকে চাপ দিলে ক্ষুব্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু তিনি এই বিষয়ে আগ্রহী হলে সম্মতি প্রদান করবেন। এখানে সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কারণ সম্মতি প্রদান না করলেও দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করা কিংবা দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা গুরুতর অন্যায়।
এর উপসংহার – একজন অযৌনচিত্ত ব্যাক্তির সাথে যৌন সম্পর্ক শুধুমাত্র তখনই সম্ভব যখন অযৌনচিত্ত ব্যক্তি এই বিষয়ে স্বেচ্ছায় আগ্রহ প্রদর্শন করেন।
ভুল ধারণা #২ – অযৌনচিত্ত মানে কোনো যৌন চাহিদা নেই
যৌন আকর্ষণ ও যৌন চাহিদা এক জিনিস নয়। যৌন চাহিদা একটি শারীরিক চাহিদা যেটা যৌনাঙ্গে অথবা দেহে (শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে প্রকাশ) পায়। যৌন আকর্ষণ বিকাশ পায় মস্তিষ্কে।
সব মানুষের বিভিন্ন পরিমাণে যৌন চাহিদা থাকে,অযৌনচিত্তরাও তার বাইরে নয়। কিন্তু যৌন আকর্ষণ ও যৌন চাহিদার মিল সবসময় হয় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন একটি রোগের কথা বলা হয় যেখানে, ব্যক্তির যৌন চাহিদা শতচেষ্টায়ও তৈরি হয় না। এর একটি বড় উদাহরণ হতে পারে হাইপোঅ্যাক্টিভ সেক্সচুয়াল ডিজায়ার ডিজঅর্ডার (hypoactive sexual desire disorder)। এই ব্যাধি যাদের আছে, তারা যৌন সংযোগের অনিচ্ছার কারণে অথবা যৌন চাহিদার অভাবের কারণে অস্বস্তি বোধ করেন।
কিন্ত যদি একজন ব্যক্তি প্রায়শই যৌন আকর্ষণ বোধ না করেন, এবং সে কারণে কোনো অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি (যৌন মিলনের আগ্রহ রয়েছে কিন্তু আকর্ষণ বোধ হচ্ছে না, এই বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত বা দু-টানায় পড়া) বোধ না করেন, সেটা কোন ব্যাধি নয়। যদি একজন ব্যক্তি প্রায়শই যৌন চাহিদা বোধ না করেন, এবং সে কারণ কোনো অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি (যৌন আকর্ষণ অনুভূত হচ্ছে কিন্তু আগ্রহ বোধ হচ্ছে না, এই বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত বা দু-টানায় পড়া) বোধ না করেন, সেটাও কোন ব্যাধি নয়।
যৌন আকর্ষণ বোধ না করা সত্বেও যৌন চাহিদা বোধ করা সম্ভব। যেমন আমরা দেখতে পাই, একজন সমকামী পুরুষ তীব্র যৌন চাহিদা বোধ করলেও একজন মহিলার প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করেন না।
যে অযৌনচিত্ত ব্যাক্তি যৌন চাহিদা বোধ করেন, তিনি নিজের সাথে যৌন সংযোগ (আত্মমৈথুন) করতে পারেন অথবা তিনি যদি যৌন সম্পর্কের প্রতি আগ্রহী থাকেন, তাহলে তিনি যৌন সংসর্গে অংশগ্রহন করতে সম্মত হতে পারেন।
References
sildarmillion (July 20, 2021) “Assumptions, Assumptions Everywhere: Common Misconceptions of and about Aspec Folks”, WordPress Blog, https://sildarmillionsays.wordpress.com/overthinking-life/aspec-assumptions/
Translation
যৌন-বিতৃষ্ণ, যৌন-অনাগ্রহী, অথবা যৌন-আগ্রহী। (sex-repulsed, sex-indifferent, sex-favourable)
I\’m impressed by your writing style and the depth of your knowledge on this topic.
I appreciate your support. I\’m glad to know my insights resonate with you.
Your post is a true masterpiece. I\’ll be referencing it in my own work.
Your dedication to providing quality content is truly admirable. I\’m a fan of your work.