দক্ষিণ এশিয়ায় যৌন বৈচিত্র্য এবং সহপাঠী সহিংসতা বিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা
কেস কোড: BD-2021-OH-04
নমুনার নাম: ওমর হোসেন (সুরক্ষার স্বার্থে ছদ্মনাম ব্যবহৃত)
ঘটনাস্থল: নারায়ণগঞ্জ / কক্সবাজার / ঢাকা, বাংলাদেশ
সাক্ষাৎকারের তারিখ: [তারিখ সুরক্ষিত], ২০২১
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: [গবেষক / ‘আনোয়াকা’ প্রতিনিধি]
পদ্ধতিগত প্রেক্ষাপট ও কাঠামোগত টীকা
যৌন শিক্ষার অভাব রয়েছে এমন একটি সামাজিক পরিবেশে একজন অযৌন (asexual) মানুষকে কী ধরনের চরম বিপন্নতার মুখোমুখি হতে হয়, তা নথিবদ্ধ করার উদ্দেশ্যেই এই মৌখিক ইতিহাসটি সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশে যৌন অভিমুখিতার (sexual orientation) বিষয়টিকে অনেক সময়ই ‘পাশ্চাত্যের চাপিয়ে দেওয়া ধারণা’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে এই প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে ডালপালা মেলে কিছু বিপজ্জনক কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস।
কোনও পূর্বনির্ধারিত আইনি জবানবন্দি বা আগে থেকে সাজানো ইন্টারভিউয়ের মতো নয় এই কথোপকথন। এখানে গবেষক স্রেফ কিছু জানা তথ্য মিলিয়ে দেখছেন না, বরং আক্রান্তের মনের অবদমিত যন্ত্রণা ও প্রথম আত্মপ্রকাশের মুহূর্তটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরছেন। ট্রমা-ইনফর্মড (আঘাত-সংবেদী) পদ্ধতি মেনে এখানে সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী ওমরের শৈশব ও নিজের সত্তাকে প্রথম চেনার দিনগুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে প্রথমে একটি সহজ পরিবেশ তৈরি করেছেন, যাতে পরবর্তীকালে তাঁর ওপর নেমে আসা সহপাঠী-সহিংসতার অন্ধকার অধ্যায়টি ওমর নিজেই ধীরে ধীরে উন্মোচন করতে পারেন।
মৌখিক ইতিহাসের অনুলিপি (Transcript)
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: আমাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনেক ধন্যবাদ, ওমর। আমি জানি এই সমস্ত কথা নতুন করে বলা কতটা কঠিন আর কতটা মানসিক শক্তির প্রয়োজন। আমরা খুব ধীরে ধীরে এগোব। তোমার যদি কোথাও অস্বস্তি হয়, তুমি যখন খুশি বিরতি নিতে পারো। শুরুতে একটু তোমার নিজের সম্পর্কে বলো – তোমার জন্ম, বেড়ে ওঠা , লৈঙ্গিক ও যৌন বৈচিত্র্য।
ওমর হোসেন: আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা নারায়নগঞ্জে। আমি পুরুষ শরীরে জন্ম নিলেও নিজেকে নন-বাইনারী বলতে পছন্দ করি। আমি বাংলা মিডিয়াম ও বয়েজ স্কুলের ছাত্র, ফলে এই সব টার্মগুলো নিয়ে কথা বললে আমার বন্ধুরা আমাকে “পাংক” বলতো। গত বছর, মানে যখন অষ্টম শ্রেণীতে আমি… সময়টা খুব অদ্ভুত ছিল। সত্যি বলতে, কিছুক্ষণের জন্য আমি ভীষণ আনন্দ পেয়েছিলাম। তার আগে পর্যন্ত আমি নিজের ভেতরেই একটা তুমুল দ্বন্দ্বে ভুগতাম। দেখতাম চারপাশের সবাই সারাক্ষণ প্রেম, আকর্ষণ, মেয়েদের নিয়ে কথা বলছে—যে অনুভূতিগুলো আমার ভেতরে বিন্দুমাত্র ছিল না। ঠিক সেই সময়ই আমি প্রথম ‘অযৌন’ (asexual) শব্দটার খোঁজ পাই। নিজের অনুভূতিটাকে প্রকাশ করার মতো একটা নির্দিষ্ট, বিজ্ঞানসম্মত শব্দ খুঁজে পাওয়াটা আমার কাছে অলৌকিক ঘটনার মতো ছিল। মনের ভেতরের একটা মস্ত বড় পাথর নেমে গিয়েছিল যেন। আমার মনে হয়েছিল, যাদের সঙ্গে আমি প্রতিদিন চলি, খেলি, সেই সহপাঠীদের সঙ্গে এই আনন্দের খবরটা ভাগ করে নেওয়া উচিত। আমি চেয়েছিলাম তারা আমাকে বুঝুক।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: তোমার স্কুলের বন্ধুদের সম্পর্কে আরো বলো- তাদেরকে কেমন মনে হতো ো?
ওমর হোসেন: আমি ঠিক যেভাবে ভেবেছিলাম, তেমনটা বিন্দুমাত্র ছিল না তারা। ‘অযৌনচিত্ত’ আসলে কি, সেটা তারা বোঝার চেষ্টাই করল না। উল্টে প্রথম দিন থেকেই শুরু হলো তীব্র বিদ্রূপ। আমাদের এখানে তো যৌন বৈচিত্র্য নিয়ে কোনো সুস্থ আলোচনা নেই, তাই ওরা নিজেদের চেনা কিছু ভুলেভরা ধারণার ছাঁচে আমাকে ফেলতে চাইল। ওরা ধরে নিল ‘অযৌনচিত্ত’ শব্দটা আসলে একটা চটকদার ইংরেজি শব্দ, যা দিয়ে আমি নিজের ‘নপুংসকতা’ বা শারীরিক অক্ষমতা ঢাকতে চাইছি। ওরা মুখের ওপর বলতে শুরু করল, “তোর আসলে ক্ষমতা নেই, আসলে জিনিস খাড়া হয় না, তুই এখন নতুন নতুন ইংরেজি শব্দ বানিয়ে জ্ঞান দিচ্ছিস।”
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: এই অপবাদের বিরুদ্ধে রোজ নিজেকে প্রমাণ করা তো অসম্ভব ক্লান্তিকর। তুমি কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে? ওদের কি নতুন করে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলে?
ওমর হোসেন: হ্যাঁ, অবিরাম চেষ্টা করে গিয়েছি। প্রতিদিন ক্লাসে যাওয়া মানেই ছিল নিজের সত্যটাকে প্রতিষ্ঠা করার এক একটা যুদ্ধ। আমি মরিয়া হয়ে ওদের বোঝাতে চাইতাম যে আমি কোনো মিথ্যে বলছি না। ওরা আমাকে গোল হয়ে ঘিরে ধরত, আর একের পর এক অস্বস্তিকর, আপত্তিকর প্রশ্ন করত। যেন আমার পরীক্ষা নিচ্ছে। কিন্তু আমি পালিয়ে যাইনি। অত্যন্ত ধৈর্য ধরে ওদের প্রত্যেকটা প্রশ্নের উত্তর দিতাম, শব্দটার আসল মানে বুঝিয়ে বলতাম। কিন্তু আমি যতই পরিষ্কার করে বলি না কেন, ওদের অজ্ঞতা ও মশকরা কমত না- যেন সবাই জেগে ঘুমাচ্ছে। আজ পেছনে ফিরে তাকালে বুঝি, ওরা আসলে কিছু শেখার জন্য বা জানার জন্য প্রশ্ন করত না; ওরা আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জেরা করত।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: কিন্তু যখন তুমি ক্লাসের বন্ধুদের নিয়মিত বিষয়গুলো ধৈর্য্য ধরে বুঝালে, তাদের কারোর প্রতিক্রিয়ায় কী কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করে ছিলা? ক্লাসের পরিবেশটাই বা কেমন হয়ে উঠল তারপর?
ওমর হোসেন: আসলে, আমাদের স্কুলের বার্ষিক পরিক্ষা শেষে, শিক্ষাসফরে (পিকনিক) গিয়ে প্রথম এটা পরিষ্কার হলো। বাংলাদেশের স্কুলগুলোর একটা চেনা নিয়ম বা ঐতিহ্য আছে—বিশেষ করে যখন কক্সবাজারের মতো কোনো নৌঘাঁটি বা সমুদ্রসৈকতে দীর্ঘ সফরে যাওয়া হয়। ছাত্রদের চারজনের ছোট ছোট দলে ভাগ করে এক একটা ঘর দেওয়া হয়। সেই সফরে অভিভাবক সঙ্গে যায় না, আমার মা-ও আমার সঙ্গে যান নাই। অলবয়েজ রুম, নানা রকম দুষ্টামি চলতে থাকে। কিন্তু আমি বিন্দুমাত্র টের পাইনি যে , সফরের শেষ দিন ওই ঘরে ঢোকার অনেক আগে থেকেই আমার তিন বন্ধু নিজেদের মধ্যে একটা ভয়ানক চক্রান্তের জাল বুনে রেখেছিল। আমার জন্য একটা ফাঁদ তৈরি করছিল।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: অর্থাৎ ওদের কৌতূহলগুলো কোনো নিষ্পাপ কৌতূহল ছিল না- তোমার ব্যাপারে, বরং একটা গভীর হিংস্রতার দিকে এগোচ্ছিল। কিভাবে বুঝতে পারলে যে এই উপহাস বা জেরা করাটা স্রেফ কথার স্তরে আটকে থাকবে না, বরং তোমার বিরুদ্ধে একটা বড়সড় চক্রান্তের রূপ নিচ্ছে? যদি একটু বিশদে বলো…
ওমর হোসেন: সারাদিন ‘নৌবিহার’ (বোট ক্রুজ) এবং স্কুলের অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে আমরা সবাই ভীষণ ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরেছিলাম। ঘরে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবেশটা এক নিমেষে বদলে গেল- ওরা বললো চল্ পর্ণগ্রাফি দেখি। আমি আসলে খুব ক্লান্ত থাকায় শুরুতে মানা করতে ছিলাম। তবে পরে সম্মতি দেই এবং আগ্রহ নিয়ে দেখতে শুরু করি। হঠাৎ ওরা তিনজন আমাকে একটা কোণায় চেপে ধরল-বসা অবস্থা থেকে শুইয়ে ফেললো। তারপর একটা ল্যাপটপ বের করে অত্যন্ত রূঢ়ভাবে আমাকে বলল যে, যতক্ষন আমার সামনে এই নীল ছবি (পর্নোগ্রাফি) চালানো হবে এবং সেটা আমাকে নগ্ন শরীরে দেখতেই হবে।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: এই ছবি জোর করে দেখানোর পেছনে ওদের যুক্তিটা কী ছিল? বন্ধু ও অল বয়েজ রুম হওয়ার পরেও ওরা ঠিক কী ভাষায় কথাটা বলেছিল?
ওমর হোসেন: ওদের গলার আওয়াজ আচমকাই ভীষণ হিংস্র আর কর্কশ হয়ে উঠেছিল। ওরা বলল, এই ছবিটা দেখা নাকি আমার জন্য একটা বাধ্যতামূলক ‘টাস্ক’ বা পরীক্ষা। আর তার পর পরই ওরা প্রথম শর্তটা চাপাল—বলল, এই ছবিটা দেখার সময় আমার শরীরে কোনো সুতো থাকা চলবে না, আমাকে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে বসতে হবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে আপত্তি জানিয়েছিলাম। আমি সরে যাওয়ার চেষ্টা করতেই ওরা তিনজন গায়ের জোরে আমাকে জাপটে ধরল। ধস্তাধস্তি করে আমার গায়ের সমস্ত পোশাক ওরা টেনে হিঁচড়ে খুলে নিল। সেই অবস্থাতেই আমি শুনলাম ওরা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে বলছে, “ও যদি সত্যিই অ্যাসেক্সুয়াল হয়, তাহলে এই ছবি দেখার সময় ওর শরীরে কোনো সাড়া জাগবে না। আর যদি ওর উত্থান (erection) হয়, তাহলে প্রমাণ হয়ে যাবে ও এত দিন আমাদের সঙ্গে মিথ্যে নাটক করেছে। আর মিথ্যে প্রমাণ হলে- শাস্তি হিসেবে ওকে আমাদের তৃপ্ত করতে হবে।”
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: তোমার পরিচয় ‘পরীক্ষা’ করার নামে ওরা তোমার শরীরের ওপর জোর খাটাতে চাইল। তুমি কি সেই সময় শিক্ষকদের কম্প্লেন করতে চেয়েছিলে ?
ওমর হোসেন: বলেছিলাম যে সকাল হলে, আমি শিক্ষকদের কাছে কম্প্লেন জানাবো। ওরা আমার মুখটা জোর করে স্ক্রিনের দিকে ঘুরিয়ে দিল, যাতে আমি তাকাতে বাধ্য হই। আমি অনবরত চোখ বন্ধ করার চেষ্টা করছিলাম, মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছিলাম, কোনোভাবেই ওদের এই পাশবিক খেলায় অংশ নিতে চাইছিলাম না। আমি যখন কোনোভাবেই ওদের কথায় রাজি হচ্ছিলাম না, তখন সেই তিনজন বন্ধু আচমকাই মারমুখী হয়ে উঠল। ওই নগ্ন অবস্থাতেই ওরা আমাকে পশুর মতো পেটাতে শুরু করল। আমি ওদের পরীক্ষা মানতে অস্বীকার করায় ঘরে ফেলে আমাকে লাথি, ঘুসি এবং মারাত্মক শারীরিক নির্যাতন করা হলো।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: সহপাঠীদের কাছ থেকে এই ধরনের চরম হেনস্থা ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হওয়াটা যেকোনো মানুষের পক্ষে এক ভয়াবহ ট্রমা, ওমর। পরের দিন তুমি কি কাউকে এই বিষয়ে জানাতে পেরেছিলে? কোনো সাহায্য পেয়েছিলে?
ওমর হোসেন: পরের দিন সকালেই আমি সোজা শিক্ষকদের কাছে গিয়েছিলাম। আমার ওপর ঘটে যাওয়া জোরপূর্বক নগ্নতা, মারধর এবং নির্যাতনের কথা সবিস্তারে জানিয়ে অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু আমাদের দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নির্যাতিতকে সুরক্ষা দিতে জানে না। অপরাধী ছেলেদের শাস্তি দেওয়া তো দূরস্ত, শিক্ষকেরা উল্টে আমার দিকেই চরম ঘেন্না আর অবজ্ঞার চোখে তাকালেন। আমার মানসিক আঘাতকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে শিক্ষকেরা আমাকে “ইঁঁচরে পাকা” বা “অল্প বয়সে পাকা” বলে গালমন্দ করলেন। স্কুলে ‘যৌনতা’র মতো একটা বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলার অপরাধে তারা পরবর্তীতে আমাকে স্কুল থেকে বের করে দিলো।
সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী: প্রাতিষ্ঠানিক এই বিশ্বাসঘাতকতা মানুষের আঘাতকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তুমি কি কোন আইনি সহোযোগিতা পাওয়ার চেষ্টা করেছিলে ?
ওমর হোসেন: না, জানতাম তাহলে আমাকে আইনিভাবেও বিপদেই পরতে হবে। শিক্ষাজীবনেই মাশুল আমাকে দীর্ঘকাল ধরে দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে স্কুল থেকে সম্পূর্ণ বহিষ্কার (expel) করে। আর সেই বহিষ্কারের পেছনে যে যুক্তিটা দেওয়া হয়েছিল, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। ওরা ব্লেম-গেম খেলে উল্টে আমাকেই দোষী সাব্যস্ত করে বলল যে, আমি নাকি স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করছি। কারণ হিসেবে লেখা হলো—আমিই প্রথম স্কুলের ভেতর যৌনতার মতো একটা ‘adult’ বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি এবং নিজের সম্পর্কে অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক ও উদ্ভট’ দাবি তুলে স্কুলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছি। নিজেদের অশিক্ষা আর ব্যর্থতার দায় ওরা আমার ওপর চাপিয়ে আমাকে শাস্তি দিল। আর আমার বাবা বাসায় এনে আমাকে খুব মেরেছে। আর সন্ধার পর বাসার বাহিরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
আমি হঠাৎ শিক্ষাজীবনে এমন ধাক্কা ও পরবর্তীতে আরো পারিবারিক অসহিসষ্ণুতা আমার সব মনোবল ভেঙ্গে দিয়েছে। এই ঘটনার আগে ও পরে যেন দুটা ভিন্ন ব্যাক্তি আমি